তাখাসসুসের প্রস্তুতিমূলক যোগ্যতা
ইতোমধ্যে পরিষ্কার হয়েছে যে, তাখাসসুস হলো শিক্ষার উচ্চতর একটি মারহালা। এ মারহালায় কামিয়াব হওয়ার জন্য প্রাথমিক ও প্রস্তুতিমূলক যোগ্যতা অর্জনের বিকল্প নেই। এখন প্রশ্ন হলো, প্রস্তুতিমূলক কী কী যোগ্যতা অর্জন করা আবশ্যক?
এ কথা তো সর্বজন বিদিত যে, তাখাসসুস করার জন্য কিতাবী ইসতিদাদ একটি মৌলিক শর্ত ও অত্যাবশ্যকীয় বিষয়। বরং বলা চলে, মেরুদণ্ড পর্যায়ের। কিন্তু মানুষ তো শুধু মেরুদণ্ড ঠিক থাকলেই দাঁড়াতে পারে না। পা-সহ আরও অঙ্গের সহযোগিতা প্রয়োজন হয়। তাই কিতাবী ইসতিদাদ থাকলেই তাখাসসুসে কামিয়াব হওয়া লাযিম নয়। বরং আরও কিছু বিষয়ে যোগ্যতা ও দক্ষতা অর্জন করার প্রয়োজন হয়। এগুলোকে একসাথে مبادئ التخصص অথবা الدراسات التحضيرية للتخصص বলা যায়। যথাক্রমে:
এক. مهارة فهم النصوص وتحليلها
যে কোনো ইলমী নসকে যথাযথরূপে বোঝা ও ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের যোগ্যতা। এটি মূলত কিতাবী ইসতিদাদের অন্তর্ভুক্ত। কিতাবী ইসতিদাদ বা যে কোনো কিতাব বোঝার যোগ্যতা অর্জন করা আবশ্যক। কিতাবী ইসতিদাদ বলতে মোটাদাগের তিনটি দিককে বুঝানো হয়ে থাকে। এক. কিতাবের ইবারত সহীহ-শুদ্ধরূপে পড়তে পারা। দুই. পঠিত ইবারতের অর্থ ও মতলব সঠিকরূপে বলতে পারা। তিন. পঠিত ইবারতে কোনো প্রশ্ন বা আপত্তি থাকলে তা ব্যাখ্যা ও সমাধান করতে পারা।
লক্ষণীয় বিষয় হলো, ইবারাত বা ইরাব সঠিক করার নির্দিষ্ট নিয়ম আছে। আমরা আরবী ইবারত সঠিক করার জন্য নাহব ও সারফ নামক দুটি ফন পড়ি। নাহব-সারফ পড়ার কারণে ইবারতে ভুল হচ্ছে কি নাÑ তা আমরা নিজেরাই অনুধাবন করতে পারি। উসতাদগণ সহজে ধরিয়ে দিতে পারেন। যেহেতু কায়দা-কানুন সকলেরই জানা আছে। অবশ্য ইবারতের কিছু কিছু বিষয় নাহব-সারফের আওতায় পড়ে না। যেমন: ইসমের উচ্চারণ, আলমের উচ্চারণ, মুসতালাহের উচ্চারণ ইত্যাদি। এগুলোর স্বতন্ত্র কায়দা-কানুন রয়েছে। তবে এগুলো অনেকাংশেই سماع বা শ্রুতি নির্ভর। তাই ইবারাত সহীহ-শুদ্ধ ও যথাযথরূপে পড়তে হলে কায়দা-কানুন ও সঠিক উচ্চারণরীতি জানতে হয়। এ ক্ষেত্রেও আমাদের অনেকের দুর্বলতা থাকে। যদ্দরুন যথাযথরূপে ইবারত পড়তে ব্যর্থ হই। অথচ এটি কিতাবী ইসতিদাদের প্রথম মারহালা।
কিতাবী ইসতিদাদের দ্বিতীয় মারহালা আরেকটু জটিল। আর তা হলো, ইবারতের সঠিক অর্থ অনুধাবন করা এবং ফন্নী মতলব ও ব্যাখ্যা উদ্ধার করা। এটি সহজ কাজ নয়; কষ্ট ও মেহনতসাধ্য। এর জন্য রয়েছে নির্ধারিত নিয়মকানুন বা ضوابط فهم الكلام। সেসব নিয়মকানুন অনুসরণ করা না হলে ইবারত বোঝার ফন্নী ইসতিদাদ হাসিল হবে না। ইবারতের কোনটি সঠিক ব্যাখ্যা ও কোনটি তাহরীফ বা বিকৃতিÑ তা পার্থক্য করা যাবে না। কেউ ইবারতের ভুল ও অপব্যাখ্যা করলে তার বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা করা যাবে না। আমাদের দরসে নিযামীতে উসূলুল ফিকহর কিতাবে এ বিষয়ে আংশিক আলোচনা হয়ে থাকে। তথাপি তা এতই সীমিত যে, উক্ত কিতাবের মাঝেই তা সীমাবদ্ধ থাকে। এর বাইরে প্রয়োগ করা হয় না। এমনকি ফিকহী কিতাবেও নিয়মতান্ত্রিকরূপে প্রয়োগ করা হয় না।
কিতাবী ইসতিদাদের তৃতীয় মারহালা মূলত দ্বিতীয় মারহালার পরিপূরক। অর্থাৎ একটি ইবারতের ফন্নী ব্যাখ্যা দাঁড় করানোর পর পরবর্তী কাজ হলো, ইবারতে কোনো প্রশ্ন আছে কি না, কোনো আপত্তি আছে কি না। থাকলে তা কী? এর ব্যাখ্যা ও সমাধান কী? প্রতিটি বিষয়ের সুনির্দিষ্ট সমাধান জানা না থাকলেও সমাধানের রুপরেখা তো স্পষ্ট থাকা উচিত।
উপর্যুক্ত তিনটি দিক অর্জনের মাধ্যমে এক পর্যায়ের কিতাবী ইসতিদাদ বা যোগ্যতা অর্জন হয়ে যায়। এখন কথা হলো, আমরা এতটুকু অর্জন করতে পারছি? যে তালিবে ইলম তালিমুল ইসলাম জামাআত থেকে দাওরায়ে হাদীস পর্যন্ত কোনো না কোনো ভাবে কিতাবুত তাহারাত পড়ে থাকে। এত দীর্ঘ সময় নিয়ে একটি অধ্যায় পড়ার কারণে এতদ্বসংক্রান্ত কোনো ইবারত তার নিকট অস্পষ্ট থাকার কথা নয়। কোনো ইবারতে প্রশ্ন বা আপত্তি দেখা দিলে উসূলী আন্দাযে সে সঠিক জবাব দিতে সক্ষম হবেÑ এটিই স্বাভাবিক। কিন্তু সরেজমিনে এর বাস্তবতা কতটুকু? আমরা কতজন তালিবে ইলম এ যোগ্যতা নিয়ে দাওরা হাদীস সম্পন্ন করছি? অথচ দাওরা ফারেগ ও তাখাসসুস আগ্রহী তালিবে ইলমদের জন্য এটি এমন যে, না হলেই নয়। কারণ,
তাখাসসুসে গবেষণা ও তাহকীকের সময় একটি ইবারতকে চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে হয়। উসূলের ভিত্তিতে নুসূস ও ইবারতের ফাহম ও তাহলীল করতে হয়। সঠিক ব্যাখ্যা হাজির করে ভুল ব্যাখ্যা অপনোদন করতে হয়। সুতরাং তাখাসসুসের পূর্বেই যদি এগুলোর প্রাথমিক ও প্রয়োজনীয় ধারণা ও যোগ্যতা অর্জন না করা হয়, তাহলে গবেষণা ও তাহকীকী কাজ সম্পাদন করা কতটুকু নিরাপদÑ চিন্তার বিষয়।
দুই. مهارة التلخيص والاستنتاج
প্রাথমিক যোগ্যতাসমূহের দ্বিতীয়টি হলো, তালখীস বা সারসংক্ষেপ তৈরিকরণ। স্বতঃসিদ্ধ কথা যে, একটি গবেষণাধর্মী কাজে অজস্র পৃষ্ঠা অধ্যয়নের প্রয়োজন হয়। একটি মাত্র মাসআলার জন্য শত শত কিতাব, কখনোবা হাজারো পৃষ্ঠা পড়তে হয়। তারপর গবেষককে এই সুদীর্ঘ ও বিস্তৃত আলোচনার খোলাসা ও সারসংক্ষেপ তৈরি করতে হয়। মূল কথাটি উদ্ঘাটন করতে হয়। এবং এই তালখীস ও ফলাফল উদ্ঘাটনের ইলমী উসূল ও যাওয়াবেত রয়েছে। যা অনুসরণ না করা হলে কখনও তা তাহরীফ ও ইফতিরা’ পর্যন্ত চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই এ বিষয়ে স্বতন্ত্র তাদরীব প্রয়োজন।
স্মর্তব্য যে, তালখীস ও ইখতিসার সর্বক্ষেত্রে এক নয়। দুটোর মাঝে পার্থক্য রয়েছে। আমরা সাধারণত যে কাজটি করি, সেটি হলো ইখতিসার। তালখীস আরও সুক্ষ ও গভীর। কারণ, ইখাতিসার সাধারণত ইবারতকেন্দ্রিক হয়ে থাকে (اختصار العبارات الطويلة)। আর তালখীস সাধারণত অর্থ ও ফিকরাকেন্দ্রিক হয়ে থাকে (تلخيص المعاني والفكرة )। গবেষণার কাজে ইখতিসারের তুলনায় তালখীসের প্রয়োজনীয়তা বেশি। তাই তালখীছের প্রাথমিক ও প্রাইমারী যোগ্যতা পূর্ব থেকেই অর্জন করা চাই।
ইসতিনতাজ তালখীসের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি বিষয়। কোনো একটি কালাম পড়ার পর সেই কালামের নতীজা কী? মুতাকাল্লিম কী বলতে চাচ্ছেন? এর প্রাসঙ্গিক অর্থ ও ফলাফল কী হতে পারে ইত্যাদি বিষয় অনুধাবন করা। এর মাধ্যমে তালখীসের কাজ সহজ হয়। পাশাপাশি গবেষণা ও অন্য কাজেও বেশ ফায়দা পাওয়া যায়।
তিন. مهارة النقد والتنقيح
ইলমের প্রতিটি শাখায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিষয়ে মতভেদ ও ইখতিলাফ রয়েছে। ইখতিলাফগুলোর পেছনে রয়েছে সঙ্গত নানাবিধ কারণ ও প্রয়োজন। ইখতিলাফগুলো নানান ধরনের ও স্তরের। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে শুযুয ও তাহরিফও হয়েছে। তাখাসসুসে সাধারণত এই বিষয়গুলোতেই বেশি জোর দেওয়া হয়। এ ধরনের বিষয়ে গবেষণা ও তাহকীকী কাজ করতে হলে প্রয়োজন নাকদ ও তানকীহের যোগ্যতা; প্রতিটি বক্তব্যকে যাছাই-বাছাই এবং বিচার বিশ্লেষণ করার দক্ষতা; বক্তব্যের শুদ্ধাশুদ্ধি ও সত্য ও অসত্য নির্ণয় করার ক্ষমতা।
আমাদের দরসে নিযামীতে ইখতিলাফী মাসায়েল এর আলোচনা সানাবিয়া স্তর থেকেই শুরু হয়ে যায়। ধারাবাহিক কয়েকটি জামাতে ইখতিলাফী মাসায়েলের আলোচনা ও বিশ্লেষণ হয়। যদিও ফিকহুল খিলাফ এর উসূল ও যাবিতা পড়া হয় না। তবে কাজ আরম্ভ হয়ে যায়। এখান থেকেই নাকদ ও তানকীহের সূচনা হয়ে যায়। কিন্তু ফিকহুল খিলাফের উসূল ও যাবিতা স্বতন্ত্রভাবে অধ্যয়ন এবং মুখতালাফ ফীহ মাসআলায় এর প্রয়োগ না করার কারণে নাকদ-তানকীহ বিষয়ে কাঙ্ক্ষিত মাহারা অর্জন হয় না। অথচ নাকদ ও তানকীহের যোগ্যতা ব্যতীত তাখাসসুসের তালিবে ইলম অচল ও অক্ষম বললেও ভুল হবে না।
বলা বাহুল্য যে, নাকদ ও তানকীহের নিজস্ব উসূল ও যাওয়াবিত রয়েছে। যা স্বতন্ত্ররূপে শেখা ও কিছু কিছু সহজ তামরীনের মাধ্যমে আমলী প্রয়োগ করা চাই।
চার. مهارة البحث العلمي
ইতোপূর্বে বিভিন্নভাবে উল্লেখ হয়েছে যে, তাখাসসুসের মূল কাজ হলো গবেষণা ও তাহকীক। জানা কথা যে, প্রতিটি কাজের নির্দিষ্ট নিয়ম আছে। নিয়মমাফিক কাজ করলেই তা যথাযথ বলে স্বীকৃতি পাবে। গবেষণা ও তাহকীক খুবই পিচ্ছিল ও ঝুকিপূর্ণ কাজ। এতে প্রয়োজন হয় মেধা, শ্রম, সময়, সহায়ক আয়োজন এবং সুবিন্যস্ত পরিকল্পনা ও কর্মপদ্ধতি। গবেষণায় শুধু হাওয়ালা ও মাওয়াদ জমা করাই একমাত্র কাজ নয়। বরং মূল কাজ তো আরম্ভ হয় মাওয়াদ একত্র করার পর। জটিলতার একেকটি ঘাত পার করতে হয়। তাই গবেষণার পূর্বেই গবেষণাপদ্ধতি জেনে নিতে হয়।
সুতরাং তাখসসুস মারহালার পূর্বেই মানহাজুল বাহাস জানা থাকলে এবং পূর্বেই কিছু তামরীনী বাহস তৈরি করার অভিজ্ঞতা থাকলে তাখাসসুসকে আরও ফলপ্রসূ করা সম্ভব। অথচ এ বিষয়ে আমাদের ধারণা নেই বললেও অত্যুক্তি হবে না।
পাঁচ. معرفة تقنيات الدراسات العليا
শিক্ষার অনেক স্তর রয়েছে। প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা। তাখাসসুস উচ্চতর শিক্ষার একটি মারহালা যা উপরে আমরা বলেছি। প্রতিটি স্তরের রয়েছে স্বকীয়তা, বৈশিষ্ট্য, ভিন্ন ভিন্ন উসূল ও যাবিতা এবং নেযাম ও নেসাব। উচ্চতর শিক্ষারও নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্য, দাবি, পথ ও পদ্ধতি রয়েছে। রয়েছে উন্নতমানের উসূল ও যাবিতা। এ স্তরের নেযাম, নেসাব, উসতায, শিক্ষার্থী সবকিছুই উচ্চতর শিক্ষার অনুকূলে সাজাতে হয়।
উচ্চশিক্ষা কী? এ স্তরে শিক্ষার মান কেমন হতে হয়? এ স্তরে পড়ালেখার ধরন ও পদ্ধতি কেমন হয়? এ স্তরে উন্নীত হওয়ার জন্য শিক্ষার্থীর মাঝে কী কী যোগ্যতা থাকতে হয়? এ স্তরকে কাজে লাগাতে হলে কীভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে? কী কী কাজ সম্পাদন করতে হবে? ইত্যাদি ইত্যাদি একজন সচেতন তালিবে ইলমকে অবশই জানতে হবে।
আমরা অনেক ক্ষেত্রে একই বিল্ডিংয়ে মক্তব থেকে দাওরা ও তাখসসুস মারহালা শেষ করায় উপর্যুক্ত দিকগুলো নিয়ে ভাবার প্রয়োজনই বোধ করি না। ফলে আমাদের সময় ও মেধা ঠিকই ব্যয় হয়। কিন্তু উচ্চশিক্ষাকে যথাযথ কাজে লাগাতে পারি না। বা কাজে লাগানোর মত যোগ্যতাই তৈরি হয় না। তাই উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের পুর্বেই উচ্চশিক্ষা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হবে।
কীভাবে অর্জন করব সেই যোগ্যতা ও মাহারা?
তাখাসসুসের পূর্বযোগ্যতা ও মাহারা সম্পর্কে খুবই সংক্ষেপে কিছু আলোচনা উপরে তুলে ধরা হলো। আশা করি, উপলব্ধি করতে পেরেছি যে, নিছক দরসিয়াতের মাধ্যমে এই মাহারাগুলো অর্জন করা দুরূহ ব্যাপার। প্রয়োজন বাড়তি মেহনত ও প্রচেষ্টার।
উপর্যুক্ত মাহারাগুলো অর্জন করার দুটি পদ্ধতি হতে পারে-
এক. তাখাসসুস মারহালার পূর্বেই উপর্যুক্ত যোগ্যতাসমূহ অর্জন করা। তাখাসসুসের পূর্বে আমাদের ফযীলতের মারহালা পার করতে হয়। ফযীলতের মারহালাও মূলত উচ্চশিক্ষার অংশ। ফযীলতের মারহালা থেকেই যদি আমরা উসতাদের পরামর্শে প্রস্তুতি নিতে থাকি। তাহলে সর্বাধিক উত্তম বলে বিবেচিত হবে। যদি দরসের পাশাপাশি তা সম্ভব না হয়। তবে বিরতির সময়গুলো কাজে লাগিয়ে আমরা নিজেদের প্রস্তুত করতে পারি। স্মরণ রাখতে হবে যে, প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য বাড়তি খুব বেশি কিতাব পড়া আবশ্যক নয়। দরসে যা পড়ছি, তার সাথে সংশ্লিষ্ট কিতাবের মাধ্যমেও আমরা প্রস্তুতি নিতে পারবো। তবে প্রয়োজন হবে সঠিক পদ্ধতিতে অধ্যয়ন ও মূল্যায়ন।
দুই. তাখাসসুসে দাখেলা নেওয়ার পর প্রস্তুতি নেওয়া।
তাখাসসুসের প্রথম ফাতরাতেই উপর্যুক্ত বিষয়াবলী স্বতন্ত্ররূপে পড়ানো ও শেখানো। এরপর তাখাসসুসের মূল কাজে প্রবেশ করা। এর মাধ্যমে মেধাবী ও পরিশ্রমী তালিবে ইলমগণ বেশি উপকৃত হবেন। গবেষণা ও তাহকীকী কাজে দক্ষতার পরিচয় দিতে পারবেন। তাখাসসুসের মূল লক্ষ্যে পৌঁছার সুযোগ পাবেন।
তাই উপর্যুক্ত বিষয়ে মাহারা অর্জনকে শুধু তামরীনের উপর ছেড়ে না দিয়ে তাখাসসুসের প্রথম ফাতরাতে স্বতন্ত্ররূপে পড়ানো ও শিখানো উচিত। তামরীন করে করেও এ সকল যোগ্যতা অর্জন করা সম্ভব। তবে সবার ক্ষেত্রে তা সহজ-সাধ্য নয়। অনেক মেধাবী তালিবে ইলমও তারমীন ও মুযাকারা করে করে কাঙিক্ষত মালাকা অর্জন করতে পারে না। তামরীন করে গবেষণার যোগ্যতা অর্জন করতে করতেই দু’বছর শেষ হয়ে যায়। তাখাসসুসের কাঙিক্ষত কাজে মশগুল হওয়ার সুযোগ পায় না। ফলত মেধাবী ও পরিশ্রমী হওয়া সত্ত্বেও অনেক তালিবে ইলম নিজের মাঝে গবেষণার আত্মবিশ্বাস খুঁজে পায় না। দীর্ঘ গবেষণার জন্য নিজেকে গড়ে তুলতে পারে না। অথচ উপর্যুক্ত বিষয়সমূহ স্বতন্ত্ররূপে অর্জন করলে সে তাখাসসুসের লক্ষ্যে পৌঁছার সুযোগ পেত।
আমাদের জামিআতুস সুফফাহ, বগুড়ায় এ বছর হাদীস ও ফিকহ উভয় তাখাসসুসের প্রথম ফাতরায় উপর্যুক্ত প্রস্তুতিমূলক পড়াশোনা করানো হয়েছে। এতে তালিবে ইলম ভাইদের মাঝে বেশ উন্নতি পরিলক্ষিত হয়েছে। আল্লাহর রহমতে আগামীতে আরওও সুশৃঙ্খলরূপে বিষয়গুলোর শিক্ষণ ও শিখনের কার্যক্রম পরিচালিত হবে। ইনশা আল্লাহ।
SUFFA RAYS
তাখাসসুসের প্রস্তুতি কীভাবে নিবো?
- মুফতী আবদুল্লাহ নাজীব হাফিযাহুল্লাহ
২য় পর্ব
--------------------------------------------

Post a Comment